রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-০১)

ঘুম থেকে উঠে নিজের পুরোনো বিছানা গুছাতে আরম্ভ করে তিথী,, সোজা চলে যায় আলমারির কাছে,, নিজের বাসি জামা পরিবর্তন করে নেয়,,
ব্রাশ করার প্রয়োজন পড়ে না তাদের,,খাওয়া সেটা তো যখন ইচ্ছা তখনই করতে পারে,,
এক নিমিষে চলে যায় পাশের ঘরে,,
সেখানে শুয়ে ছিল সুমন,, তাকে আর ডাকলো না তিথী,, সে চলে গেল বাগানে,, সেখানে গাছে পানি দিচ্ছিল আসলাম ভাই,,
সেখানে তিথী গিয়ে দাঁড়ালো তার পাশে,,
তিথী আসলাম কে ভাই বলে ডাকে,, আর আসলাম তিথীকে বোন বলে,,
আসলাম ঘাড় পুরো পিছনে ঘুরিয়ে বললো এখানে কি করিস,, আর এতো তাড়াতাড়ি ঘুম ভাঙল তোর,,
তিথী আসলাম কে বললো সেটা নিয়ে তোর টেনশন করতে হবে না,,
আগে বল কাল যাকে মারলাম তার কি হলো,,
সে তো ওখানেই পরে আছে,,সোজা জবাব আসলাম এর,,
তিথী আসলাম কে উচ্চস্বরে বললো কি করেছিস তুই,, জানিস না মরা মানুষ বেশিক্ষণ থাকলে গন্ধ বের হয়,,, আর একদিন তো আমরা দেখলাম লাশ থেকে পোকা কিল বিল করছে,,
তুই জানিস না বড় মা ওইসব নোংরা একদম পছন্দ করে না,, আর সেই তুই এতো বড় ভুল করলি,,
আসলাম দুঃখিত কন্ঠে জবাব দিলো,, মাফ করে দে মা,, ভুল হয়ে গেছে,, আর করবো না,,
এখন চল ওই জানোয়ার টার একটা ব্যবস্থা করা যাক,,
দুই জন মিলে চলে গেলো সেখানে,, যেখানে তারা মেরে রেখেছিল একজন কে,,
তারা সেখানে গিয়ে দেখে লাশ থেকে এখনও মদের গন্ধ আসছে,,
তারা আর দেরি না করে হাতের ইশারায় লাশ টিকে শুন্যে ভাসিয়ে দিলো,, আর সেটি নিয়ে যেতে লাগলো
বাড়ির পাশের পুকুরে,,,
সেখানে গিয়ে এক বারে ছুড়ে ফেলে দিলো সেটি,,
তারা আবার ফিরে এলো বাড়ির ভিতরে,,
আর পরিষ্কার করতে লাগলো পুরো বাড়ি,,
ততক্ষণে তারা সুমন কে জাগিয়ে দিয়েছে,,
সুমন হলো তাদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট,,
বয়স মাত্র তেরো বছর,,
সে জেগে উঠেই বললো বড় মা আর রাকেশ ভাইয়া এখনও আসে নি,,
তিথী জবাব দিলো না রে এখনও আসে নি,,
সুমন আবার বললো আপু আমাদের আর কতো দিন অপেক্ষা করতে হবে তাদের জন্য,, আর কতো বছর
আমরা অপেক্ষা করবো তাদের জন্য,,
তারা কি আর ফিরে আসবে না,,
আমাদের কথা কি তাদের মনে পড়ে না,,
তিথী সুমন এর মাথায় হাত দিয়ে বললো,, না রে বোকা ছেলে,, তারা ঠিক আসবে,,
মনে নেই তারা কি বলে গিয়েছিল,,
তারা বলে গিয়েছিল যে আমরা যেনো তাদের না ফেরা পর্যন্ত এখান থেকে না বের হয়ে যাই তারা না আসা পর্যন্ত যেনো আমরা এই বাড়ি পাহারা দেই,,
আর তারা তো বলেছিল যে তারা খুব শীঘ্রই ফিরে আসবে,,
সুমন আবার তিথী কে জিজ্ঞেস করলো যে আপু,,,
কাল রাতে একটা শব্দ শুনলাম সেটা কিসের ছিল,,
তিথী জবাব দিলো আরে না একটা কুকুর ছিল,,
আসলাম ভাই সেটা তাড়িয়ে দিয়েছে,,
মাথা ঝাকালো সুমন,, আর বললো আমি তো ভেবেছিলাম যে আবার কেউ আমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়েছিল আর সে হয়তো এখন ওই পুকুরে ভাসছে,,
তিথী হেসে জবাব দিলো না সেইরকম কিছু না,, বলেই তিথী সেখান থেকে চলে গেলো,,
বাইরে আসলাম দাঁড়িয়ে ছিল,, সে তিথী কে বললো ঠিক করেছিস সুমন কে বলিস নি কাল রাতে কি হয়েছিল,, তা না হলে সে হয়তো ওই লাশের মাথা দিয়ে ফুটবল খেলত,, তার যে রাগ,,
আগের বার তো লাশের এক পা ছিড়ে কি যেনো একটা খেলছিল,,
তিথী জবাব দিলো ঠিক আছে,,
আর আমাদের এই ভাবেই রক্ষা করতে হবে এই বাড়ি কে,, কারণ বড় মা যে বলে গিয়েছে যে তারা না আসা পর্যন্ত যেনো আমরা এই বাড়ি দেখে রাখি,,
আর কাল যে এসেছিল সেও নিশ্চয় কোনো বদ মতলব নিয়ে এখানে এসেছিল,,
দেখলি না কেমন মদ খেয়ে এসেছিল,,
আর আমাকে দেখেই কেমন যেনো এগিয়ে আসছিল,, তার চোখে আমি দেখেছিলাম লালসা,,
ঠিক যেটা আমি কয়েক বছর আগে আরো কয়েকজন এর চোখে আমি দেখেছিলাম,,
তাই তো আমি আর দেরি না করে আমার রুদ্র রূপ ধারণ করি আর এক হাতে ওর মাথা ঘুরিয়ে পিছনের দিকে করে দেই,, সাথে সাথে তো মরে গেলো,,

আর কাল রাতে ও যদি এখানে না আসতো তাহলে বেঁচে যেতো,,
আসলাম বললো,, ঠিক বলেছিস,, আমাদের রক্ষা করতেই হবে যতদিন না পর্যন্ত বড় মা আর জাহিদ ফিরে না আসে,, ওদের জন্যেই তো আমরা গত পচাঁঞ্চ বছর ধরে অপেক্ষা,,
আরো যদি কয়েকশো বছর অপেক্ষা করতে হয় তাহলে আমরা সেটি করতেও রাজি,,
কিন্তু আমরা তারা না আসা পর্যন্ত এই বাড়ি ছেড়ে যাবো না,,
এই বাড়িতে যারাই আসবে তারাই মরবে আমাদের হাতে,, আর তারা যদি ভালো হয় তবে তাদের একটা সুযোগ দিবো,, প্রথমে তাদের ভয় দেখাবো,, তার পর যদি না যায় তবে তাদের শেষ করে দেবো,, আর যদি তাদের উদ্দেশ্য খারাপ হয়,, তবে কোনও মাফ নেই তাদের,, মরতে তাদের হবেই,,,
কথা গুলো এক নিমেষে বলেই চলে গেলো তিথী,,

এক বালতি পানি সাদিক এর গায়ে পড়ায় ধর ফরিয়ে শোয়া থেকে উঠে যায় সাদিক,,
সাথে সাথে সামনে তাকিয়ে দেখে আকাশ তার কয়েক পার্টি দাঁত বের করে হাসছে,,
সাদিক তো তাকে দেখে একেবারে রেগে শেষ,,
আকাশ সাদিক এর অবস্থা দেখে একবার দাঁত বের করে হেসে দৌড় দিলো,, আর যাওয়ার আগে বলে গেলো,, পাঁচ মিনিটের মধ্যে নিচে না আসলে জান বের করে নিবো,,
সাদিক আবার তার দিকে রাগী লুক নিয়ে তাকালো,,
কিন্তু আকাশ তার আগেই সেখান থেকে পালিয়ে গেছে,,
সাদিক আর দেরি না করে বিছানা থেকে নেমে বাথরুমে চলে গেলো,, আর ফ্রেশ হয়ে নিলো,,

আকাশ হলো সাদিক এর বেস্ট ফ্রেন্ড,, সে স্কুল জীবন থেকেই সাদিক এর বন্ধু,, তারা যা করে সব একসাথেই করে,, তারা একসাথে অনেক জায়গায় ঘুরে বেরিয়েছে,,, আর তাদের একমাত্র মেয়ে বন্ধু হলো রীতি,, যে একটা সুন্দর কিন্তু একটু চঞ্চল মেয়ে,,, সাদিক তাকে মনে মনে পছন্দ করে,, কিন্তু কোনোদিন তা প্রকাশ করে নি,,, আর রীতিও সাদিক কে পছন্দ করতো,, কারণ সাদিক ছিল দেখতে মোটামুটি হ্যান্ডসাম ,, আর তার সবচেয়ে বড় দিক হলো তার সিক্স সেন্স,,, যা সাদিক কে আরো আকর্ষণীয় করে তোলে রীতির কাছে,,,
সাদিক এর বন্ধু হওয়ার কারণে সে অনেক কাছ থেকে দেখেছে সাদিক কে,, তাকে সে কখনো ভেঙে পড়তে দেখেনি,,, আর তার আন্দাজ এর তো জবাব নেই,,
একবার তো পরীক্ষায় টিক চিহ্ন পরীক্ষায় সাদিক কিছুই পরে যেতে পারে নি,, কারণ দুই দিন ধরে তার খুব জ্বর ছিল,, তো পরের দিন তার খুব টেনশন করার কথা,, কিন্তু সে হাসতে হাসতে কলজে ঢোকে,,
আর ফ্রি মাইন্ডে এসে তার ছিটে বসে,,, সবাই তো ভেবেছিল যে এইবার সাদিক নিশ্চয় ফেল যাবে,, কারণ এমনিতেই সে খুব একটা ভালো ছাত্র না,,
তার মধ্যে আবার সে কিছুই পরে আসে নি,,,
একটু পর পরীক্ষা শুরু হলো,, প্রশ্ন তো আগের বারের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হলো,,
সবার তো মাথায় হাত প্রশ্ন দেখে,,
রীতি আর আকাশ ভাবলো তারা পরেই হয়তো ফেল করবে আর সাদিক তো কিছুই পরে নি,, তারা সাদিক এর দিকে তাকালো,,, তাকে দেখে তারা হা হয়ে গেলো,,
তার দুই চোখ ছিল বন্ধ আর কলম ছিল সিট এর উপর,, একটু পর পর সে চোখ খুলছিল আর টিক দিচ্ছিল,,
পরীক্ষার রেজাল্ট দিলো কয়েকদিন পর,, পরীক্ষা ছিল ত্রিশ মার্কের,, কিন্তু সাদিক পেলো আঠারো,,
সবাই তো অবাক,, যেখানে সর্বোচ্চ নম্বর হলো বিশ,,
সেখানে কিছু না পড়ে যাওয়া স্টুডেন্ট পেলো আঠারো,,,
আর ওই দিকে আকাশ আর রীতি তেরো আর চৌদ্দ পেয়ে কোনো মতো পাশ করলো,,
এটার পর থেকেই রীতি সাদিক প্রেমে পড়ে যায়,,
এর পর আকাশ সাদিক কে দিয়ে অনেক লটারি কাটায়,, কিন্তু দুঃখের বিষয় একটাও লাগে না,,
সেটা কি জন্য হয় তা কেউ বুঝতে পারে না,,

সাদিক ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে যায়,, সেখানে দেখে আকাশ একটা টোস্ট বিস্কুট গিলছে,, আর তার সামনে বসে আছে রীতি,, হাতে তার চায়ের কাপ,,
রীতি এমনিতেই দেখতে অনেক সুন্দর,, কিন্তু হাল্কা মেকআপ করে যেনো আরো সুন্দর লাগছিল তাকে,, সাদিক তার দিকে যেনো অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল,, কিন্তু পরক্ষণেই সে তার দৃষ্টি নামিয়ে নেয়,,
আর নিচে গিয়ে বসে পড়ে তাদের সাথে,,,
সেখানে গিয়েই আকাশ তাকে বলে এখন আমাদের পরীক্ষা শেষ তাই আমরা বেড়াতে যাবো,,
সাদিক বললো,, সেটা সমস্য নয়,, কিন্তু কথা হলো আমরা যাবো কোথায়???
রীতি পাশ থেকে বললো আমরা যদি কোনো জঙ্গল বা পাহাড় এলাকায় যাই তাহলে কেমন হয়,,
সাদিক একটু ভেবে বললো,, ভালো, কিন্তু আমাদের চাই নতুন একটা অভিজ্ঞতা,, তখন রীতি আবার বললো,, তাহলে আমরা চন্দনপুরে যাই,,
সেখানে আছে বিশাল এক জঙ্গল আর তার পাশে রয়েছে একটা গ্রাম,, আগে নাকি সেখানে ডাকাত থাকতো আর লোকে বলে সেখানে নাকি ভূতের আনাগোনা আছে,,
আকাশ বললো, তো ফাইনাল আমরা সেখানে যাচ্ছি,,
সাদিক বললো সেরকমই তো মনে হচ্ছে,,
রীতি বললো সেখানে আমার এক আত্মীয় আছে,,
আমরা তার বাড়িতে থাকতে পারি,,
আকাশ এইবার উৎসাহের সাথে বললো তাহলে তো হলোই।। আমরা দুই দিন পর রওনা দেবো,, রেডি থেকো সবাই,,

চলবে………

About সাদিক হাসান

Check Also

রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-১৫)

পাগল টা সাদিক দের বললো আমার কাজ আমি করেছি এখন তোদের কাজ বাকি, তোরা এখন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *