রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-০৮)

একটু পর সাদিক আর আকাশ হাল্কা কিছু খেয়ে বৃদ্ধর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দিলো সেই জঙ্গল এর উদ্দেশ্য আর তাদের উদ্দেশ্য সেই বাড়ি যেখানে রাখা হয়েছে রীতি কে,
তারা জানে না আজও রীতি ঠিক আছে কিনা,
আর তারা অবগত বিপদ সম্পর্কেও সম্পূর্ণ অঙ্গো,
তাদের ধারণার বাইরে তারা কি রকম বিপদ এর সম্মুখীন হতে চলেছে,,
সাদিক এর হাতে রয়েছে একটা স্ক্রিন, যেখানে জঙ্গল এর উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া ড্রোন সব পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে,
অনেক ঘন জঙ্গল, এক হাত সামনে কি রয়েছে তাও তারা জানে না, তাদের অস্ত্র বলতে রয়েছে শুধু একটা রিভলভার আর দুই জনের কাছে দুটো ছুরি,
আর তাদের ব্যাগে রয়েছে ওয়ারলেস,

জঙ্গল দিয়ে যাওয়ার সময় সাদিক লক্ষ করে সামনে ঝোপ ঝার কাটা,,
এর মানে একটাই, জুবায়ের রীতি কে এই রাস্তা দিয়েই নিয়ে গেছে,
সাদিক দের আর কষ্ট করে ঝোপ ঝাড় কাটতে হলো না, তারা সেই রাস্তা অনুসারে এগিয়ে চলছিল,

তারা অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে যায়,
এক সময় তারা হাপিয়ে যায়, আর বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটা গাছের নিচে বসে পড়ে, আর সাদিক তার হাতের স্ক্রিন দিয়ে জঙ্গল কে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে, আশেপাশে যা আছে সব ভালো করে দেখে নেয়, ড্রোন এর রেঞ্জ অনেক হওয়ার কারণে অনেক দূর পর্যন্ত তারা খুব ভালো করেই দেখতে পাচ্ছিল,,হঠাৎ সে স্ক্রিনে একটা বাড়ি দেখতে পায়,
অনেক পুরনো একটা বাড়ি আর আশেপাশে জঙ্গলে ভরপুর, সাদিক বাড়ির চারপাশে ঘুরে দেখতে যাবে সেই সময়েই তাদের ব্যাগ এর ভিতর কার ওয়ারলেস থেকে আওয়াজ আসতে লাগলো,

সাদিক আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে সেটি হাতে নিয়ে শুনতে লাগলো, কারণ আকাশ তার কাছে বসে আছে আর বাকি থাকে শুধু একজন এর সে হলো রীতি,
সে নিশ্চিত রীতিই তাদের সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা করছে,, সাদিক সেটি হাতে নিয়ে শুনতে লাগলো,
সেখান থেকে ভেসে আসছে রীতির ভয়ার্ত কন্ঠ,
সে বলছে,
হ্যালো সাদিক আমি রীতি, আমাকে বাচাঁও,, ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, তুমি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছ, ওভার….
সাদিক জবাব দিলো রীতি তুমি ঠিক আছ তো কেউ তোমাকে কিছু করতে পারবে না,, আমরা আসছি,
একটু ধৈর্য রেখো,, আমরা শীঘ্রই আসবো,, ওভার,,

সাদিক কথা শেষ করার পর আর কোনো কথা শুনতে পেলো না,, শুধু একটা ছেলের করুন আর্তনাদ শুনতে পেলো,, আর একটু পর রীতির গলা,, সে কাউকে মিনতি করে বলছে,, আমাকে মেরো না, ওরা আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে এসেছে,, আমি এখানে নিজ ইচ্ছায় আসি নি,
তোমরা তো ওদের মেরে দিলে,, এইবার আমাকে ছেড়ে দাও,, আর কিছু বলার আগেই রীতির একটা আত্মচিৎকার তাদের কানে এলো,, তার পর সব চুপ,
সাদিক যেনো পাথর হয়ে গেছে,, সে বুঝতে পারছে
না কি থেকে কি হয়ে গেলো,,
আকাশও কিছুই বুঝতে পারছে না,
সাদিক গভীর মনোযোগ দিয়ে কি যেনো ভাবছে,,

রীতি একবার বললো ওরা আমাকে মেরে ফেলবে আবার বললো তোমরা তো ওদের মেরে দিলে আমাকে ছেড়ে দাও,
তাহলে কে কাকে মারলো আর একটা কথা পরিষ্কার যে ওখানে দুই পক্ষ রয়েছে যারা জুবায়ের আর তার দল বল কে মেরে ফেলেছে আর তারা হয়তো রীতি কেউ এতক্ষন,……..
আর ভাবতে পারছে না সে,, হঠাৎ তার ভিতর একটা
চিন্তা চলে আসলো,, তাহলে এরাই কি সেই বাড়ির রক্ষক যাদের কথা বৃদ্ধ তাদের বলেছিল,,
সাদিক আর দেরি না করে দ্রুত এগিয়ে চললো সেই বাড়ির দিকে,, তার পিছন পিছন চললো আকাশ,
আকাশে উড়া ড্রোন টি আগেই নেমে এসেছে,,

তারা দাঁড়িয়ে আছে সেই বাড়ির সামনে,, দুই তোলা বিশিষ্ট একটা বাড়ি, চতুর্দিক দিয়ে লতা পাতা ঘিরে রেখেছে,, আর বাড়ির পাশে রয়েছে একটা শ্যাঁওলা পড়া পুকুর,,হয়তো এখানেই লাশ ফেলে রাখা হয়,
হঠাৎ করে কথা থেকে যেনো একটা লাশ উড়ে এসে
পুকুরের পানিতে পড়লো, একে একে সাত টা লাশ পড়লো পুকুরের ভিতর, আর শেষ এর লাশ টি ছিল
জুবায়ের এর,, তার ঘাড়ে মাথা ছিল না,, একটু পর শুধু মাথা এসে পড়লো পুকুরের পানিতে,

সাদিক আর আকাশ শুধু যন্ত্রের মতো চেয়ে এইসব দেখছিল,, তারা প্রচণ্ড শক খায়,, যে কেউ এইসব দেখলেই সেখানেই অজ্ঞান হয়ে যেতো,, তাদের ঘোর ভাঙে একটা পাখির ডাকে, করুন স্বরে ডাকছিল সেই পাখি, মনে হয় তাদের এখান থেকে তাড়াতাড়ি
চলে যাওয়ার আহবান জানাচ্ছে,,
কিন্ত সাদিক এর এইদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই,
সে ধীর পায়ে এগিয়ে চললো সেই বাড়ির দিকে,
কিন্তু আকাশ পিছন থেকে তাকে আটকায়,
তাঁকে বলে ভিতরে কি বিপদ অপেক্ষা করছে তা আমাদের অজানা,
আগে আমাদের বিপদ থেকে বাঁচার উপায় খুঁজে তার পর ভিতরে ঢুকতে হবে,, সাদিক তার কোথায় সম্মতি জানায়,,

সাদিক তার হাতের ড্রোন টি আবার চালু করে, উড়িয়ে দেয় সেটি আকাশ এর বুকে,
ড্রোন টি শাঁ শাঁ করে এগিয়ে চললো সেই বাড়ির দিকে, সেখানে ভেসে উঠলো একটা বীভৎস দৃশ্য,
চারিদিকে ছাড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অনেক রক্ত,
আর বাড়ির এক কোণে পড়ে রয়েছে রীতির নিথর দেহ,, সাদিক আর আকাশ আজও জানে না যে রীতি বেঁচে আছে কিনা,, রীতির সামনে রয়েছে একটা ইজি চেয়ার, যেটা একটু পর পরই নড়ে উঠছে,
মনে হয় কেউ সেটাতে বসে দোল খাচ্ছে,, হঠাৎ করে
কথা থেকে যেনো একটা রড উড়ে এসে সেই ড্রোন টা কে এফোর ওফোর করে দেয়,,

তারা কিছুই বুঝে উঠতে পারে নি যে কে বা কারা তাদের ড্রোন এর এই রকম একটা অবস্থা করবে,
তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় যে যতো দ্রুত সম্ভব তারা ওই বাড়িতে প্রবেশ করবে, কারণ রীতির সামনে অনেক বড় বিপদ, আর হয়তোবা তাদেরকেও মোকাবেলা করতে হবে অনেক বড় বিপদ এর,

তারা আস্তে আস্তে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে,
বাড়ির দরজা পার করার সাথে সাথে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তারা আর অযথা দরজা খোলার চেষ্টা করে না,
কারণ তারা ভালো করেই জানে যে ওই দরজা আর খুলবে না,
সাদিক দৌড়ে রীতির কাছে যাওয়ার আগে অদৃশ্য কিছু যেনো বার বার তাকে বাঁধা দিচ্ছিল,
সাদিক তার উদ্দেশ্যে জোরে চেঁচিয়ে বললো কারা তোমরা,, এভাবে লুকিয়ে হামলা না করে সামনাসামনি এসো, যদি সেই সাহস থাকে তো,

সাদিক এর কথা শেষ হওয়ার আগেই জোরে জোরে বাতাস বইতে শুরু করলো, আশেপাশের গাছ পালা
দুলতে শুরু করলো,, আর তখনই..

চলবে..

About সাদিক হাসান

Check Also

রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-১৫)

পাগল টা সাদিক দের বললো আমার কাজ আমি করেছি এখন তোদের কাজ বাকি, তোরা এখন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *