রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-০৯)

সাদিক দের সামনে ধোঁয়ার কুন্ডলি পাকিয়ে একে একে সামনে আসলো আসলাম, তিথী আর সুমন..
তাদের চোখে মুখে ছিল হিংস্রতা সাথে তাদের চোখ দিয়ে যেনো বের হচ্ছিল জ্বলন্ত অগ্নি,, সেটা যেনো এখনই বের হয়ে তাদের সবাই কে ঝলসে দিবে,

রীতির সেন্স ফিরে আসে, অনেক কষ্টে সে চোখ মেলে তাকায়,
সে সামনের দিকে তাকিয়ে দেখে সাদিক আর আকাশ আর সাদিক দাঁড়িয়ে আছে মূর্তির মতো আর তাদের স্তির দৃষ্টি তাকিয়ে আছে সামনের দিকে, রীতি সেই দিকে তাকায় আর
সেই বীভৎস দৃশ্য দেখে জোরে চিৎকার দিয়ে আবার পড়ে যায়,

সাদিক আর আকাশ যেনো তিথীদের দেখে সেখানেই পাথর হয়ে গেছিল কিন্তু রীতির চিৎকার এর কারণে তাদের হুস ফেরে
তারা রীতির দিকে তাকায় আর দেখে রীতি পরে যাচ্ছে,
সাদিক দৌড়ে যায় রীতির কাছে, এইবারো সেই অদৃশ্য শক্তির কারণে তার কাছে যেতে পারে না, সে আসলাম আর তিথীদের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে,
তোমরা যেই হও না কেনো আমাকে রীতির কাছে যেতে দাও,
তার পর আমাদের সাথে যা ইচ্ছা তাই করো,
সাদিক এর কথা বলার পর সে আবার রীতির কাছে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করে, আকাশ ও সাদিক এর কাছে চলে এসেছিল,
এইবার তারা বিনা বাধায় রীতির কাছে পৌছাতে সক্ষম হয়,,
সে সেখানে গিয়ে রীতির মাথা নিজের কোলের উপর নেয়,
এর পর সে তার সেন্স ফেরায়, রীতি উঠে সাদিক কে সামনে দেখে যেনো একটু স্বস্থি পায়,

তাদের এইসব দেখে তিথী রেগে হয় গিয়ে অগ্নি কন্ঠে বলে তোদের হয়ে গেলে এইবার আমরা আমাদের শুরু করি,
সাদিক ধীরে উঠে দাঁড়ায় আর তাদের উদ্দেশ্যে বলে কি বলতে চাও বলে ফেলো,
তিথী বলে,, আমরা হলাম এই বাড়ির রক্ষক, এখানে যারা প্রবেশ করে তাদের আমরা মেরে দেই, এখানে মানুষ আসে তার নিজ ইচ্ছায় কিন্তু যায় আমাদের ইচ্ছায়,, সে ফিরে যায় ঠিকই কিন্তু সেটা লাশ হয়ে, আজ পর্যন্ত কেউ এই বাড়ি থেকে জীবিত ফিরে যেতে পারে নি,
সাদিক বললো কেনো আমাদের মারতে চাও আমরা কি দোষ করেছি, আমাদের বন্ধু কে এখানে ওই শয়তান গুলো ধরে নিয়ে এসেছিল, তাই তাকে বাঁচানোর জন্য আমাদের এখানে আসা,

তিথী আবার তার রুক্ষ গলায় বললো আমি তাকে সুযোগে দিয়েছিলাম কিন্তু সে পালায় নি, উল্টো তোরা আবার এই বাড়িতে পা দিলি,
আমাদের একটা নিয়ম আছে, এই বাড়িতে যে বা যারা ভুল করে আসবে তাদের একটা সুযোগ দেওয়া হবে এখান থেকে পালানোর, কিন্তু যদি সে সেই সুযোগ হাতছাড়া করে তবে তার আর নিস্তার নেই, তাকে মরতেই হবে আমাদের হাতে, আর যদি কেউ এই বাড়িতে খারাপ উদ্দেশ্যে আসে তবে তার কোনো নিস্তার নেই, নির্মম ভাবে মরতে হবে তাকে,,

সাদিক বললো বেশ তাহলে মরতে যখন হবেই তাহলে আমাদের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে হবে,
তাদের কথা শুনে আসলাম রেগে গেলো, আর বললো তোদের ভাগ্য ভাল যে তোরা এখনো বেঁচে আছিস, আর এখনো আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিস, আমাদের সাথে কেউ কোনোদিন এইভাবে কথা বলার সাহস পায় নি,
এতক্ষণ ধরে সবার কথা শুনে যাচ্ছিল সুমন,
সে এইবার মুখ খুলল, সে আসলাম কে থামিয়ে দিয়ে বললো
ভাইয়া এদের আমার ভালো লেগেছে,, তারা তাদের বন্ধু কে বাঁচাতে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে ছে, তাই আমাদের উচিত তাদের শেষ ইচ্ছা পূরণ করার, আর তারা তো এখানে খারাপ উদ্দেশ্যে আসে নি তাই তাদের সুযোগ দেওয়াই যায়, আর যতোই হোক তাদের তো মরতেই হবে,

তিথী একটু ভেবে বললো সুমন ঠিক বলেছে, তাদের শেষ ইচ্ছা আমরা পূরণ করবো,
তিথী তখন সাদিক দের উদ্দেশ্যে বললো তাহলে বলে ফেল কি তোদের শেষ ইচ্ছা, আমরা চেষ্টা করবো তা পূরণ করার,

সাদিক তখন একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বললো আমাদের শেষ ইচ্ছা হলো এটা জানার যে তোমরা কারা, কি জন্য এখানে রয়েছে তোমাদের অস্তিত্ব, কি তোমাদের উদ্দেশ্য, আর কেনো মেরে ফেলো ওই সব নিরীহ মানুষদের,,

তিথী তখন বললো, বেশ তোর যখন এটাই ইচ্ছা তাহলে আমি বলবো সব কিছু, কে আমরা, কি আমাদের ইচ্ছা,, আর আমরা কেনো এখানে পড়ে আছি,,
সাদিক, রীতি, আকাশ, এক জায়গায় গিয়ে বসলো,
আকাশ আর রীতির পুরো বিশ্বাস আছে যে সাদিক তাদের কিছুই হতে দিবে না, সে বাঁচাবেই তাদের, তাই tar আর সময়
নষ্ট না করে এক কোনায় বসে পড়লো আর অপেক্ষা করতে লাগলো তিথীর কথা শোনার জন্য,

তিথী বলতে শুরু করলো, আমার নাম তিথী, একটা সাধারণ মেয়ে ছিলাম, জীবনে সব কিছুই হারাই সেই ছোটবেলাতেই,
জন্মের সময়েই মারা যায় মা, আর কিছু দিন পরেই বাবা আরেকটা বিয়ে করে আমাকে ফেলে দিয়ে চলে যায়, সেই ছোট্ট দুধের শিশু আমাকে মানুষ করে একটা বুড়ি, যার কেউ ছিল না এই দুনিয়ায়, সেই বুড়ি মানুষের বাড়িতে কাজ করে আমাকে মানুষ করতো,
একদিন সেই বুড়িও মারা গেলো, সেই সময়ে আমার বয়স ছিল মাত্র চৌদ্দ বছর,
গ্রামে সবাই এই সময় থেকেই অনেক কিছু বোঝা শেখে, আমাকে দেখার মতো কেউ ছিল না, সবাই নানা অপবাদ দিয়ে অপমান করতো, কেনই বা করবে না, যার মা জন্মের সময় মারা যায়, যার বাবা তাকে ছেড়ে চলে যায়, তার নামে মানুষ কিভাবে ভালো কিছু বলবে,
এই গ্রাম ছেড়ে আমি চলে যাই জঙ্গলে, সেখানে গিয়ে নিজের একটা সুন্দর কুটির বানাই, যেখানে আমি থাকতাম, খাবার ব্যবস্থা বনের ফল মূল থেকেই হয়ে যেতো,

সব কিছু ভালোমতোই চলছিল, কিন্তু ওইতো ভাগ্যের দোষ,
সেখানেও, শান্তি পেলাম না, একদিন রাতের বেলা জঙ্গল থেকে বের হয়ে গ্রামে আসি খাবার এর সন্ধানে, তখন জঙ্গলে খাবার এর অভাব ছিল, রাত হয়ে যায় আমার ফিরতে,
সেই সময়েই ঘটে বিপত্তি….

চলবে…

About সাদিক হাসান

Check Also

রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-১৫)

পাগল টা সাদিক দের বললো আমার কাজ আমি করেছি এখন তোদের কাজ বাকি, তোরা এখন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *