রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-১৩)

তিথী সাদিককে বললো আমরা এখানে সারাজীবন থাকবো যদি বড় মা ফিরে না আসে,,
সাদিক তাকে প্রশ্ন করলো যদি কোনোভাবে তোমাদের বড় মা বা রাকেশ ভাই মারা গিয়ে থাকে,, তাহলেও কি তোমরা এখানে থাকবে, তিথী একটু ভেবে বললো আমাদের মন বলছে বড় মা এখনো বেঁচে আছেন, আর রাকেশও এখনও বেঁচে আছে,
আর যদি তারা কোনোভাবে মারা গিয়ে থাকে তাহলে সেটা আমরা ভেবে দেখবো, কিন্তু এখন তোদের এখান থেকে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে, তোরা তোদের গন্তব্যে যেতে পারিস,
কেউ আর তোদের বাঁধা দিবে না,
সাদিক দের ওখান থেকে বের হতে কষ্ট হচ্ছিল, কারণ হাজার হোক ওরা ভালো মানুষ ছিল আগে আর বড় কথা হলো, ওরা রীতিকে বাঁচিয়েছে জুবায়েরদের হাত থেকে, তাই এইটুকু সময়ের মধ্যেই ওরা যেনো সাদিকদের আপন হয়ে গেছে,
সুমনের সাথেও রীতির বন্ধুত্ব হয়ে গেছে,কিন্তু ওদের কিছুই করার নেই, কারণ সাদিক লুকিয়ে তাদের বলে দিয়েছে যে এদের এখান থেকে মুক্তি দিতে হলে সাদিকদের বাড়ি থেকে বের হয়েই সব কাজ করতে হবে,, এর জন্য আগে বাড়ি থেকে বের হওয়া জরুরী,

সাদিকরা বাইরে বেরিয়ে এলো,,
কিন্তু তিথী রা বাড়ি থেকে বের হলো না, কারণ তারা যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, সাদিক রা আবার উপলব্ধি করতে পারলো যে তাদের প্রভু ভক্তি কতটা গভীর আর একজন মানুষ কতটা ভালো হলে নিজের জীবন দিয়ে অন্যের গচ্ছিত ধন রক্ষা করে, রীতি বললো এরা আসলেই এই বাড়ির প্রকৃত রক্ষক, আসলাম সায় দিলো তার কথায়,
সাদিক রা যখন বাইরে বের হয়ে রাস্তা ধরে হাটছিল তখন কথা থেকে যেনো একটা পাগলা এসে হাজির হলো সেখানে, বয়স আনুমানিক সত্তর হবে, গায়ে তার ছেড়া পোশাক, মুখ ভালো মতো বোঝা যাচ্ছিল না দাড়ির কারণে,, আর দাঁত বের করে বিচ্ছিরি ভাবে হাচ্ছিল সে,,
রীতি তো তাকে দেখেই সাদিক এর পিছনে গিয়ে লুকানোর জায়গা খোঁজে আর আসলামও ভয় পেয়েছিল কিন্তু সে লুকাতে পারে নি লজ্জায়,,
পাগলা তার মুখ গম্ভীর করে তাদের পর্যবেক্ষণ করতে করতে বললো তোরা বেঁচে আছিস কি করে আর যারা এই বাড়িতে একবার পা দেয় তারা আর জীবিত ফিরে যেতে পারে না, কিন্তু তোরা এখানো কি করে বেঁচে আছিস,,

সাদিক সেই পাগলের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করলো না, তাই সে সামনের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো, কিন্তু পিছন থেকে সেই পাগল আবার বলতে লাগলো, চলে যাচ্ছিস যা কিন্তু মনে রাখিস এই বাড়ির সব রহস্য ভেদ করা আর ওদের মুক্তির উপায় খুঁজতে তোদের আমার কাছেই আসতে হবে,,
সাদিক তার কথা শুনে থমকে গেলো, সাথে সাথে সে পিছনের দিকে ঘুরে তাকালো কিন্তু সেই পাগলা কে আর দেখতে পেলো না,, মুহূর্তের ভিতর সেই মানুষ কোথায় যেতে পারে তা সাদিক ভেবে পেলো না, কিন্তু সে হাল না ছেড়ে খুঁজতে আরম্ভ করলো তাকে, একসময় সে দেখলো ওই পাগলা গান গাইতে গাইতে আপন মনে কোথায় যেনো যাচ্ছে,, সাদিক তাকে পিছন থেকে ডাক দিলো, এই যে শুনছেন, কি জানেন আপনি, আমাদের সব খুলে বলুন দয়া করে, আমরা যে ওদের মুক্তি দিতে চাই, আমরা যে চাইনা সেই বুড়োর মতো কোনো বাবা তার নিষ্পাপ সন্তান কে হারাক এই বাড়িতে,,, তাই দয়া করে সব বলুন আমাদের,,

তখন সেই পাগলা মুখ ফিরে তাকালো সাদিকদের দিকে, মুখে তার এক বিজয়ের হাসি, মনে হয় তার কথা সত্য হলো সেই জয়ের হাসি,
সে সাদিক কে বললো আমি তোদের জন্যই এতদিন অপেক্ষা করছি, তরাই পারবি ওদের মুক্তি দিতে,, তাই আমি সব খুলে বলবো তোদের,, আর এটাও বলে দিবো ওদের মুক্তি কি করে হবে,,
সাদিক খুশি হয়ে তাকে বললো কিন্তু আপনি কে, আপনি কি করে এতো সব কথা জানেন আর বড় কথা হলো যে আপনি কি করে এখানে এই ভয়ংকর জায়গায় এলেন,,
সেই পাগল ইসৎ হেসে বললো আমার পরিচয় জানার চেয়ে তোদের প্রশ্নের উত্তর জানা বেশি জরুরি,,,
সাদিক বললো ঠিক আছে তাহলে শুরু করুন,,

পাগলটা বলতে শুরু করলো,,
বড় মা যার নাম ছিল রহিমা বিবি,, সে দেখতে অতোটাও সুন্দর ছিল না, কিন্তু তার বিয়ে হয় বড় একটা পরিবারে, কিন্তু রহিমা ছিল শয়তান এর পূজারী আর সে শয়তান এর উপাসনা করতো গোপনে,,
কিন্তু কি করে যেনো তার শশুর বাড়ির লোকেরা সেটি জানতে পেরে যায়,, কিন্তু সেই সময় তার পেটে সন্তান থাকার কারণে আর তাদের ছেলে কষ্ট পাবে ভেবে কাউকে কিছুই জানায়নি তারা, কিন্তু যখন রহিমা তার স্বামী কে খুন করে আর তার রক্ত শয়তান কে উৎসর্গ করে তখন তার শশুর বাড়ির লোকেরা তাকে বের করে দেয়, কিন্তু তারা এটা জানতো না যে রহিমাই তাদের ছেলেকে খুন করেছে,, এর পর জন্ম নেয় রাকেশ,,
যে ছিল মানসিক প্রতিবন্ধী যার চলাফেরা করার কোনো সামর্থ্য ছিল না,, একজন এর পাপের শাস্তি কাউকে না কাউকে পেতেই হয়,, সেইরকম রহিমার পাপের শাস্তি তার ছেলেকে ভোগ করতে হচ্ছে,,
রহিমা এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না, তাই সে আরো বেশি করে শয়তান এর পূজা করতে থাকে যেনো তার সন্তান সুস্থ হয়ে যায়,,
এক পর্যায়ে তার দেখা হয় এক তান্ত্রিক এর সাথে যেও শয়তান এর পূজারী ছিল,, আর সে রহিমা কে আরো বেশি করে শয়তান এর পুজোয় আগ্রহী করে তোলে, দিন সে আরো খারাপ হতে থাকে, কিন্তু রাকেশ এর অবস্থা আগের মতই থাকে বলে সে খুব রেগে যায় আর তান্ত্রিক কে মারার হুমকি দেয়,

তান্ত্রিক অনেক রেগে যায় কারণ তাঁরই শিষ্য হয়ে তাকেই হুমকি দেয় এটা তান্ত্রিক মেনে নিতে পারছিল না,, তাই সে মনে মনে একটা নোংরা ষড়যন্ত্র করে রহিমার বিরুদ্ধে, যাতে করে রহিমাও শিক্ষা পায় আর সেও যেনো শক্তিশালী হয়ে উঠে আরো,

সেই পাগলের কথা শুনে সবাই খুব অবাক হয়ে গিয়েছিল,, কারণ তারা বড় মাকে ফেরেশতা মনে করেছিল, কিন্তু তার আড়ালে যে সে এতো বড় শয়তান তা তারা ভাবতেও পারে নি,
আর এই পাগলোই বা কেনো তাদের মিথ্যা বলতে jabe, এতে তো তার কোনো স্বার্থ নেই,,
সাদিক এটা ভেবে দুঃখ পাচ্ছিল যে তিথীরা এই রকম একটা জঘন্য মানুষের জন্যে ডাকাত দের হাতে নিজেদের প্রাণ দিয়ে দিলো,
সাদিক সেই পাগলকে জিজ্ঞেস করলো কি সেই ষড়যন্ত্র,
পাগল টা আবার বলতে শুরু করলো,,
সেই তান্ত্রিক রহিমা কে বলে তোর সন্তান ঠিক হবে একটা উপায়ে আর সেটা হলো…..

চলবে..

About সাদিক হাসান

Check Also

রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-১৫)

পাগল টা সাদিক দের বললো আমার কাজ আমি করেছি এখন তোদের কাজ বাকি, তোরা এখন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *