রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-১৪)

তোকে শয়তান এর কাছে বলি দিতে হবে একটা যুবতী মেয়ে, একটা যুবককে আর একটা পনেরো বছর বয়সী বাচ্চা কে,,
পাগলটার কথা শুনে সাদিক, আকাশ আর রীতির গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেলো, তারা যেনো তাদের কান কেই বিশ্বাস করতে পারছে না,কারণ এই রকম একটা কথা শোনার জন্য তারা মোটেই প্রস্তুত ছিল না,,
আকাশ তো বলেই দিলো যতো সব কুসংস্কার,,
কিন্তু সাদিক তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, এই সব কুসংস্কার বা অন্ধ বিশ্বাস নয়, দুনিয়াতে কিছু অপ্রাকৃত ঘটনা আছে যার কোনো সঠিক ব্যখ্যা নেই, আর সেই যুগের মানুষেরা এই সব বিশ্বাস কে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতো আর পৃথিবীতে এখনও ইলুমিনাতি বা কালো জাদুর অনেক গোপন সঙ্ঘ আছে,
যারা প্রকৃত পক্ষে অনেক ভয়ানক,,
পাগল টা সাদিক এর উদ্দেশ্যে বললো অনেক কিছু তুমি জানো দেখছি এই ব্যাপারে তার মানে তোমরাই ঠিক লোক এই কাজের জন্য,,
তাহলে বাকি ঘটনা শোনো এইবার,,
রহিমা এটা শুনে অনেক চিন্তায় পড়ে যায়, তার চিন্তার বিষয় হলো কি করে একটা যুবতী মেয়ে, একটা যুবক আর পনেরো বছর বয়সী একটা বাচ্চা কে জোগাড় করবে,,
তাই সে খুঁজতে থাকে এই রকম মানুষদের খুঁজতে খুঁজতে সে দেখা পায় আসলাম এর, তার বাবা সেই সময়ে মৃত,, তাই রহিমা তার ভালো চাচা আর চাচী কে সম্মোহন করে আসলাম কে অনেক কষ্ট দেওয়ায় আর পরে তাকে সেই বাড়ি থেকে বের করে দেয়,, এর পর রহিমা ফেরেশতার বেশে এসে তাকে বাঁচায়
আর সে হয়ে যায় আসলাম এর বড় মা, এই সুযোগে সে তাকে ভুল ভাল বুঝিয়ে তার হাতেই তার চাচা চাচী কে খুন করায় যাতে কেউ রহিমা কে সন্দেহ না করে,
এর পর রহিমা খুঁজতে শুরু করে একটা যুবতী মেয়ে কে,
সেই সময় সে পেয়ে যায় তিথী কে,, তিথী সেই সময় জঙ্গল এর উদ্দেশ্যে হাটছিল, আর ঠিক সেই সময় রহিমা তাকে সম্মোহন করে তার চোখ দিয়ে তাকে কয়েকটা নেকড়ে দেখায় আর যা দেখে তিথী ভয় পায় আর সেই সুযোগে রহিমা তার কাছে এসে তাকে বাঁচানোর অভিনয় করে এতে করে সে তিথীর চোখে ভালো হয়ে যায় আর তিথী তাকে তার নিজের মায়ের পর স্থান দেয়, কিন্তু সে ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারে নি কি উদ্দেশ্য ছিল ওই শয়তান রহিমার,, তার ধারণাতেও ছিল না যে সে কতটা নিচে নামতে পারে,,
এর পর রহিমার পরের শিকার হয় সুমন, তখন সে ছিল দেখতে অনেকটা রাকেশ এর মতো, তাই রহিমা তাকেই তার পরবর্তী শিকার করে, এর জন্য তাকে ডাকাত দের সাথে হাত মিলাতে হয়, সে তার নিজের দেহ ডাকাতদের কাছে বিলিয়ে দিয়ে সুমন এর পরিবার কে খুন করায় আর সুমন এর কাছে যাওয়ার সুযোগ করে নেয়,,

কিন্তু সুমন এর বয়স পনেরো না হওয়ার কারণে সে তাদের কাউকে বলি দিতে পারছিল না, তাই সে কয়েক বছর অপেক্ষা করে আর ততদিনে ওরা ওদের বড় মা রুপি শয়তান কে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে শুরু করে,, সেই বিশ্বাস এর সুযোগ নিয়েই বড় মা রুপি রহিমা যখন সুমন এর বয়স পনেরো হতে আর কয়েকদিন বাকি তখন সে রাকেশ এর চিকিৎসার নাম করে সেই তান্ত্রিক এর দে ডেরায় যায় আর তার থেকে বলি দেওয়ার সব পন্থা শুনে নেয়, কিন্তু তান্ত্রিক এর মনে ছিল অন্য কিছু, সে ওই রহিমা আর রাকেশ সহ বাকিদের বলি দিয়ে নিজে ক্ষমতা পাওয়ার লোভ করেছিল,,

কিন্তু সে সুযোগ সে আর পায় নি,,
আকাশ নির্লিপ্ত ভাবে প্রশ্ন করলো যে কেনো, কি হয়েছিল তারপর,,
আকাশ এর কথা শুনে যেনো সেই পাগলটি নরেচড়ে বসলো আর তার মুখ দেখে মনে হলো যেনো কোনো ভয়ঙ্কর কথা বলতে চলেছে সে,, আর এই গল্পের শেষ তার এই কথা গুলোর মধ্যেই রয়েছে,,
পাগল টা আবার বলতে শুরু করলো,,
সেই তান্ত্রিক রহিমা আর রাকেশ কে তার ছল দিয়ে বন্দি করলো আর তাদের বেঁধে রাখলো,,
তাদের সেখানে বেঁধে রেখে সে চললো সেই বাড়ির উদ্দেশে যেখানে অপেক্ষা করছিল তিথী, আসলাম, আর সুমন,
তার উদ্দেশ্য ছিল বড় মার নাম করে তাদের বলির স্থানে নিয়ে গিয়ে বলি দিয়ে দেওয়া,,
সে এগিয়ে যেতে থাকে সেই বাড়ির উদ্দেশে,,

আর ওইদিকে বড় মা কোনো ভাবে তার হাতের বাঁধন কে আলগা করে দেয় আর তার পাশে একটা রাম দা দেখতে পায়,, সেই সময় আকাশ ছিল মেঘলা, যেকোনো সময়ে বৃষ্টি নামতে পাড়তো, আর হালকা করে আকাশের গর্জন শোনা যাচ্ছিল,,
সেই উপর ওয়ালার যে অন্য ইচ্ছা ছিল, সে সবার সাথে খেলতে চেয়েছিল এক খেলা, তিনি যা করে তার পিছনে কোনও না কোনো কারণ নিশ্চয় থাকে,,

রহিমা যেই রাম দা উঠিয়ে রাকেশ এর পায়ের বাঁধন কাটতে যাবে সেই সময় একটা বাজ পড়লো সেই রাম দা এর উপর,,
রাম দা লোহার হওয়ার কারণে এটি হয়েছিল, মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে ঝলসে গেলো রহিমা আর রাকেশ, কারণ সে ছিল রহিমার কাছে আর সেও পুড়ে যায়, কিন্তু তার মুখ টা কোনো মতে চেনা যাচ্ছিল,,
তাই পথচারীরা তাদের চিনতে পারে আর তাদের লাশ একটা বক্সে পুড়ে সেই বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যায়, কিন্তু সেখানে ওই ডাকাতরা তাদের আক্রমণ করে আর মেরে ফেলে দেয় আর তাদের লাশ পুঁতে দেয়,,,

রীতি উদ্বিগ্ন হয়ে প্রশ্ন করলো, তাহলে সেই তান্ত্রিক এর কি হলো,, আর রহিমা তো তার পাপের উপযুক্ত শাস্তি পেলোই,,
পাগল টা বললো হ্যাঁ, যে পাপ করে সে তার পাপের শাস্তি কোনো না কোনো সময় পাবেই, সেটা ইহকাল হোক বা পরকাল, যেমন আমি পাচ্ছি,,
সাদিক বললো মানে,,
পাগল টা হেসে বললো সেটা তোমাদের না জানলেও হবে,, আর কি জানতে চাইলে সেই তান্ত্রিক এর কি হলো, তাহলে শোন,,
সেই তান্ত্রিক যখন সেই বাড়িতে যায় তখন সে দেখে ডাকাত রা ওই বাড়ি আটকিয়ে রেখেছে,, আর সে নিজের চোখে সব অত্যাচার দেখে আর যখন তিথী রা আত্মা হয়ে যায় সেটাও দেখে, কারণ তার আত্মাদের দেখার ক্ষমতা ছিল, তাই সে সেখান থেকে না গিয়ে লুকিয়ে সব দেখতে থাকে,,
সে এটাও দেখে যে কয়েকটা লোক রহিমা আর রাকেশ এর লাশ নিয়ে আসছে, সে অবাক হয়ে যায় তাদের লাশ দেখে, সে যখন ওখান থেকে চলে যাচ্ছিল তখন সে ওই ডাকাত দের হাতে খুন হতে দেখে সেই নিরীহ মানুষদের, আর তার পর দেখে
তিথীদের হাতে খুন হতে সেই ডাকাতদের, সে ফিরে যায় খালি হাতে তার আস্তানায়, কারণ তার করার কিছুই ছিল না আর সে যে হারিয়েছে সব কিছু, এর পর সে কোথায় যেনো গায়েব হয়ে যায়, কিন্তু আমার জানা মতে সে এই জঙ্গলেরই কোথাও আছে,
সাদিক বললো তাহলে সেই তান্ত্রিকই একমাত্র প্রত্যক্ষ দর্শী যে জানে বড় মা আসলে কতটা ভয়ানক ছিল আর সে নিজে যদি এইসব কথা তিথী আর বাকিদের বলে তাহলে ওরা বড় মার উপর বিশ্বাস ভেঙে যাবে আর তাদের মুক্তি ঘটবে এই জীবন থেকে,,
পাগল টা বললো হ্যাঁ একদম ঠিক, কিন্তু সেটা যদি এতই সহজ হতো তাহলে তো হতোই,, তার আগে তোদের খুঁজে বের করতে হবে সেই তান্ত্রিকে, আর তাকে নিয়ে যেতে হবে ওই বাড়িতে তিথীদের সামনে আর খুলে বলাতে হবে সব কিছু, আর তিথীরা কি বড় মার নামে এতো কিছু এমনি বিশ্বাস করবে, তাদের কে দেখাতে হবে সেই লাশ সহ বাক্স যা রয়েছে বাড়ির পাশের একটা গর্তে,,
রীতি বললো তাহলে আমাদের হাতে অনেক কাজ,, কিন্তু আমরা যে ওদের মুক্তি না দিয়ে যেতে পারি না, যারা সারাজীবন কষ্ট পেয়ে গেলো, নিজেদের পরিবার হারালো, নিজেদের সমস্ত সুখ বিসর্জন দিলো, আবার নিজেদের মৃত্যুর পরও সেই শয়তানের কথা রাখার জন্য ভক্তি সহকারে ওই বাড়ির রক্ষা করে গেলো, সেই মানুষদের জন্য কিছু না করে কিছুতেই যাবে না রীতি, সে নিজে প্রতিজ্ঞা করলো, তার সাথে সাদিক আর আকাশো প্রতিজ্ঞা করলো..
নেমে পড়লো তারা রক্ষক দের রক্ষা করার কাজে,এটা যে তাদের কর্তব্য….

চলবে……..

About সাদিক হাসান

Check Also

রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-১৫)

পাগল টা সাদিক দের বললো আমার কাজ আমি করেছি এখন তোদের কাজ বাকি, তোরা এখন …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *