রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-১৫)

পাগল টা সাদিক দের বললো আমার কাজ আমি করেছি এখন তোদের কাজ বাকি, তোরা এখন তোদের কাজ করে যা, তোদের কাজ তো তোরা বুঝতেই পেরেছিস, আর আমি তোদের সাহায্য করবো এই কাজে, প্রথমে তোদের খুঁজে বের করতে হবে এই জঙ্গলে বসবাসরত সেই তান্ত্রিক কে আর তাকে রাজি করাতে হবে যেনো সে তিথীদের কে সব সত্যি কথা বলে, কিন্তু এটা এতটা সহজ হবে না, কারণ সে জানে যদি তিথী বা আসলাম এই বিষয়ের কিছু জানতে পারে তবে সেই দিন হবে তার শেষ দিন, তাই তাকে রাজি করানো অনেক কঠিন হবে,,

আকাশ বললো যদি সে বলতে না চায় তাহলে তাকে জোর করেই বলাবো আমি, শুধু তার জন্য নষ্ট হয়ে গেছে এতগুলো জীবন, তার দামতো তাকে দিতেই হবে, আর সেটা তাকে দিতে হবে তার নিজের জীবন দিয়ে,
সাদিক সেই পাগল কে জিজ্ঞেস করলো, এই জঙ্গলে কি কোনো গুহা আছে,
পাগল টা বললো হ্যাঁ আছে বেশ কয়েকটা, কিন্তু সেটা দিয়ে কি হবে, সাদিক তার ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি নিয়ে বললো যদি তান্ত্রিক বেঁচে থাকে তাহলে তো তাকে কোথাও থাকতে হবে, তাকে তো কিছু খেয়ে থাকতে হবে, তাই তার থাকা খাওয়ার জন্য তো একটা ঠিকানা লাগবে, আর এই ঘন জঙ্গলে তো আর বাড়ি বানানো যাবে না, তাই এর জন্যই গুহাই সঠিক,,
তাই যদি আমাদের খুঁজে বের করতে হয় তাহলে আগে নদীর ধারের কোনো গুহা খুঁজে বের করতে হবে, কারণ নদীর ধারে
পানি আর খাবার দুটোই পাওয়া যায়,,
পাগল টা বললো ঠিক, এটা তো আগে আমার মাথায় আসে নি, আমি তোমাদের নদীর ধারের কয়েকটা গুহার দিক বলে দিচ্ছি, তোমরা সেই অনুযায়ী চললেই সঠিক পথ পেয়ে যাবে,,
আর এই কাজ তোমাদের একাই করতে হবে আমি এই পর্যন্তই তোদের সাহায্য করতে পারি,
সাদিক রা অন্য দিকে ঘুরে ছিল, তাই যখন তার কথা শুনে তারা পিছনে টাকায় তখন দেখে সেখানে কেউ নেই,, আর তারা অনেক খুঁজেও সেই পাগলটাকে আর খুঁজে পেলো না, তারা ভেবে পেলো না যে এইটুকু সময়ের মধ্যে সে গেলো কোথায় আর সে কে ছিল যে বিনা বাক্যে তাদের এতো তথ্য দিলো আর পথ দেখাতে চেয়েও না দেখিয়ে চলে গেলো,,
সাদিক এই রকম কিছু ভাবছিল, ঠিক সেই সময় একটা কাগজ কথা থেকে যেনো উড়ে এসে তাদের পায়ের কাছে পড়লো, সাদিক সেই কাগজ হাতে নিয়ে দেখে একটা নকশা, সে একটা হাসি দিয়ে উপরের দিকে তাকায় আর অজান্তেই কাউকে ধন্যবাদ দেয়,, সেই নকশায় ছিল নদীর কাছে পৌঁছানোর রাস্তা আর ছিল চার থেকে পাঁচ টা গুহা,,

সাদিক সবাইকে ম্যাপ টা বুঝিয়ে দিলো, সবাই সেই ম্যাপ অনুযায়ী চলতে লাগলো, একপর্যায়ে তারা দেখতে পেলো একটা ক্ষরস্রোতা নাম না জানা একটা নদীর,, আর নদীর ওই পারে পাহাড়ের গায়ে দেখা যাচ্ছে কয়েকটা খোপ আকৃতির গুহা, সেগুলো ছোট ছোট পায়রার ঘরের মতো দেখাচ্ছিল, কারণ নদীটা ছিল অনেক বড় আর ক্ষরস্রোতা, নদীর পানিতে ছিল অনেক কারেন্ট, যদি কেউ সাহস করে সেখানে নামে তবে সে মুহূর্তের মধ্যেই ভেসে চলে যাবে অন্যত্র,,
তাই সাদিক রা উপায় খুঁজতে লাগলো এই নদী পার হওয়ার, কিন্তু তারা আসে পাশে খুঁজেও নদী পার হওয়ার মতো কিছুই খুঁজে পেলো না,
সাদিক হতাশ হয়ে একটা মরা গাছের গুরির বসে পড়লো,
আকাশ তার পাশে এসে বসলো, সে সাদিক কে বললো, আমরা তো বের হয়েছিলাম অ্যাডভেঞ্চার করার জন্য,
কিন্তু এটাই বা অ্যাডভেঞ্চার এর চেয়ে কম কিসে, এখানে আমাদের মোকাবেলা করতে হয়েছে জুবায়ের এর মতো শয়তান দের,
আমরা বেঁচে ফিরেছি খুনি ভূতেদের হাত থেকে, আবার আমরাই সেই ভূতদের মুক্তির উপায় খুঁজতে এখানে এসে দাঁড়িয়েছি, আমরা ঠিক কোনো উপায় পেয়ে যাবো,,
সাদিক আকাশ এর দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিলো, তার মাথায় বিদ্যুৎ এর বেগে খুঁজতে লাগলো উপায়, আর মুহূর্তেই তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো, আর চিৎকার করে বললো পেয়ে গেছি উপায়,, এই নদী পার হবার উপায় পেয়ে গেছি,
রীতি একটু দূরে দাঁড়িয়ে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করছিল, সাদিকের চিৎকার শুনে সে তাদের কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে,
সাদিক, রীতি আর আকাশ কে বললো এতক্ষণ উপায় আমাদের চোখের সামনে ছিল কিন্তু আমরা কেউ তা দেখতে পাই নি, রীতি বললো কি সেই উপায়,,

সাদিক দূরে হাত দিয়ে কয়েকটা কলা গাছ দেখাবে এমনটাই ধারণা করেছিল আকাশ আর রীতি, কিন্তু তাদের ধারণা কে ভুল প্রমাণিত করে তাদের বসে থাকা মরা শুকনো গাছটির দিকে ইশারা করলো সাদিক আর দূরে আরো এই রকম গাছ পড়ে রয়েছে সেটাও তাদের দেখালো সাদিক, আর দূরে কয়েকটা লতা গাছ বেয়ে উঠে এসেছে সেই রকম শক্ত দেখে কয়েকটা লতা নিজের ছুরি দিয়ে কেটে নিলো সাদিক, সাথে তার ব্যাগ ছিলই আর সবার কাছেই সাদিকের মতো ছুরি আছে যা সাদিকই তাদের দিয়েছিল যার মূল্য এখন তারা হারে হারে বুঝতে পারছে,, সাদিক রা দাঁড়িয়ে ছিল নদীর পারের বালির উপর, আর পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ক্ষরস্রোতা নদী আর নদীর ওপারে রয়েছে কয়েকটা পাহাড় আর সেই পাহাড়ের নিচেই দেখা যাচ্ছে কবুতরের ঘরের মতো কয়েকটা গুহা,,যেই লক্ষে পৌছাবার জন্য তারা ভেলা তৈরী করছে।।

সাদিক আর আকাশ দুইজনে সব কয়টা মরা গাছের গুরি এক জায়গায় করে তার ভিতর দিয়ে লতা গুলো এক বিশেষ পদ্ধতিতে গীট দিয়ে একত্রিত করে আর একটা পূর্ণাঙ্গ ভেলায়
পরিণত করে, এতে করে তাদের অনেক খাটতে হয়, সকাল থেকে তারা দুপুর পর্যন্ত ভেলা বানাতেই কাটিয়ে দেয়,,
এই পুরো সময় ধরে রীতি শুধু তাদের কাজ দেখে কাটিয়ে দেয়,
আর হাতে কয়েকটা জিনিস শুধু এগিয়ে দেয়, হাজার হোক সে মেয়ে, যে যেখানেই যাক না কেনো সুবিধা তো একটু ভোগ করবেই, তার চুপ থাকা দেখে আকাশ বলেই ফেলেছিল এই ভাবে বসে আছিস কেন, কাজ করতে পারিস না, এমনি তো রাস্তায় খুব আন্দোলন করিস ছেলে মেয়ে সমান অধিকার চাই তাহলে এখন বসে আছিস কেন, কাজ কর,, তার এই রকম কথা শুনে তো রীতি রেগে আগুন হয়ে গিয়েছিল,, সে তো একটু হলেই আকাশ কে মেরে দিত, শুধু সাদিক ওকে আটকায় দেখে একটু রক্ষা,, কিন্তু একটু পর সাদিক আকাশ এর কথা শুনে হাসতে হাসতে বলে অতো ঠিকই বলেছে,, এটা বলেই দুই বন্ধু দৌড় লাগায়,
এই দিকে রীতি শুধু রাগী লুক নিয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে।।।
সাদিক তার সাথে একটা দরি নেয় আর সবাইকে সেই দরির সাথে একে অপরের সাথে বেঁধে দেয়, যাতে করে কেউ ছুটে গেলেও একজন আরেকজন কে ধরতে পারে,, এই পদ্ধতি টা সাদিক বেয়ার গ্রিলস এর কাছ থেকে শিখেছিল, আসলেই সেই শো টা অনেক শিক্ষনীয়।
সাদিকরা আর দেরি না করে তাদের তৈরি ভেলা নদীর পানিতে ভাসিয়ে দিলো, কিন্তু সেই সময় হঠাৎ করে তাদের ভেলা কাঁদা মাটিতে আটকিয়ে যায়, যার ফলে তারা হাজার চেষ্টা করেও সেটি ইঞ্চি পরিমাণ নরাতে পারে না,,
এই অবস্থায় তারা কি করবে তাদের কারোর মাথায় কিছুই আসছিল না, চিন্তা করতে করতে হঠাৎ করে রীতি বললো আজ তো আমাদের এখানে আসার চার দিন হলো, তার মানে আজ আমাদের ট্রেন ছিল যা আমরা মিস করবো,,
এই সব বিপদের জন্য করো মাথায় এটা ছিলই না আবার এই পরিস্থিতিতে যখন তারা ভেলা তুলতে পারছিল না সেই সময় রীতির মুখে আরেকটা খারাপ খবর শুনে তার মেজাজ গরম হয়ে গেলো, কিন্তু সে নিজেকে ঠান্ডা রাখলো কারণ রাগারাগী কোনো কাজের সঠিক সমাধান নয়, কিন্তু সে বলেই দিলো এটা সেই কথা মনে করার সময়, যেখানে আমরা আমাদের প্রতিজ্ঞা রক্ষায় এখনও সফল হতে পারি নি, সেখানে আমরা কি করে ফিরে যেতে পারি, ওই রকম হাজার টা ট্রেন মিস হয়ে যাক না কেনো আমরা সফল হয়েই ফিরব এখান থেকে,,
তাই বলে সাদিক জঙ্গল এর দিকে গেলো,
সবাই তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে ছিল,,
সাদিক ফিরে এলো হাতে করে অনেক গুলো লতা আর ডাল পালা নিয়ে,,
সবাই শুধু সাদিকের কাজ কর্ম গুলো অবাক নিয়মে দেখছিল,
তারা কেউ অবগত নয় যে সাদিক কি করতে চলেছে,,

সাদিক যেখানে ভেলা দেবে গেছে সেই জায়গা আরো খুঁড়ে একটা গর্তের মতো বানালো,, তার পর
সাদিক সেই ডাল পালা আর লতা পাতা গুলো সেই গড়তের ভিতর দিয়ে ভরাট করলো তার পর সবাইকে বললো একসাথে তার বলার সাথে সাথে ধাক্কা দিতে, সবাই তার কথা মতো কাজ করলো আর সাদিক বলার পর ধাক্কা দিলো, এতে সহজেই ভেলা টি নদীতে নেমে গেলো,, সবাই অবাক হয়ে সাদিকের দিকে তাকালো, সাদিকের মুখে তখন সেই বাঁকা হাসি, কারণ সে জানে ওরা কি জানতে চায়,, সাদিক তাদের বলে রাগের সময় আমার মাথা দ্রুত কাজ করে আর তখন গায়ের রক্ত জোরে চলে বলে একটু বেশি শক্তি অনুভব করি, যার ফলে বুদ্ধি আর শক্তি একসাথে কাজে লাগিয়ে যেকোনো কিছু করতে পারি আমি,,
সাদিকের কথা শুনে যেনো সবাই অবাকের পর অবাক হচ্ছিল,
কারণ রাগের সময় তাদের সবার বুদ্ধি লোপ পায় আর সাদিকের নাকি সেই সময় মাথা ভালো কাজ করে,,
সাদিক সবাইকে নিয়ে ভেলায় উঠে আর ভেলা ভাসিয়ে দেয় আর স্রোতের সাথে আড়াআড়ি করে চলতে থাকে, এই ভাবে সহজেই নদী পার হওয়া যায়, কিন্তু বিপত্তি ঘটলো অন্য জায়গায়, যখন তারা ঠিক মাঝ নদীতে তখন হঠাৎ……

চলবে…

About সাদিক হাসান

Check Also

রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-১৪)

তোকে শয়তান এর কাছে বলি দিতে হবে একটা যুবতী মেয়ে, একটা যুবককে আর একটা পনেরো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *