রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-১৭)

সাদিক একটা গুহার সামনে এসে দাঁড়ালো আর উল্লাস এর সাথে বললো হ্যাঁ পেয়ে গেছি আমাদের সেই কাঙ্খিত বস্তু, আর আমার ধারণাই ঠিক ছিল, এই গুহার ভিতরেই অবস্থান করছে সেই তান্ত্রিক, যাকে খুঁজতে আমাদের এখানে আসা, আমাদের এখন শুধু দেখতে হবে সে ভিতরে আছে কি না,
আকাশ একটু কৌতুহলী জিজ্ঞেস করলো, তুই কি করে বুঝলি যে সে এখানেই রয়েছে?
সাদিক তখন তার হাতের আঙুল গুহার নরম মাটির দিকে ইশারা করে বললো দেখ ভালো করে ওখানে, কিছু কি দেখতে পাচ্ছিস,
আকাশ অনেকক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে বললো মনে তো অস্পষ্ট কারো পায়ের ছাপ,,
সাদিক বললো ঠিক তাই, আমি সব গুহার সামনে ওটাই খুঁজছিলাম আর এখানে এসে পেয়ে গেলাম, এর একটাই মানে দাঁড়ায় যে এখানে মানুষের যাতায়াত আছে,
আকাশ বললো এটা তো আমাদের কারো মাথাতেও আসে নি,
রীতি হাসতে হাসতে বললো ওই জন্যই ও সাদিক, আর তুই বলদ।।।
আকাশ রেগে গেলো রীতির কোথায়, সাদিক বললো এখন মজা করার সময় নয়, আমাদের যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব ওই তান্ত্রিক কে খুঁজে বের করতে হবে আর এখান থেকে বের হয়ে যেতে হবে, সবাই সাদিকের কোথায় সম্মতি দিলো, আর তারা আস্তে আস্তে প্রবেশ করতে লাগলো সেই গুহার ভিতরে, তারা যতো প্রবেশ করছিল তাদের হার্টবিট ততো জোরে বাড়ছিল,
তারা জানে না কি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য, অজানার উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়েছে তারা, হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ কিসে যেনো হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলো রীতি, সাদিক তার বাহু ধরে তাকে তুলে নিলো,,
সাদিকরা এগিয়ে চলতে লাগলো, গুহার মধ্যে অন্ধকার ছিল
কিন্তু দেয়ালে লাগানো মশাল গুলো লাগাতার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছিল, সাদিকরা এটা দেখে শিউর ছিল যে এখানেই সেই রয়েছে, আর গুহা টি বেশি বড় না আবার ছোটও না, তাই তারা হাঁটতে হাঁটতে একেবারে গুহার শেষ মাথায় গিয়ে পৌঁছালো, সেখানে গিয়ে দেখলো কেউ একজন নামাজে সিজদারত অবস্থায় আছে, সাদিকরা বুঝতে পারলো যে এটাই সেই তান্ত্রিক কিন্তু এটা সে কিছুতেই মেলাতে পারছিল না যে একটা শয়তান এর পূজারী কি করে আল্লাহর রাস্তায় আসতে পারে,
তাদের সব ধারণা কে আবার উপেক্ষা করে সেই তান্ত্রিক নড়েচড়ে উঠলো আর দাঁড়ালো এবং দুই রাকাত পূর্ণাঙ্গ নামাজ পড়ে হাত উপরের দিকে তুলে মোনাজাত করতে লাগলো,,
সাদিকরা শুধু হতভম্ব হয়ে দেখছিল এই সব,
তাদের সব ধ্যান ধারণা ভেঙে দিয়ে সেই তান্ত্রিক বললো তোরা ঠিকই ভাবছিস, আমিই সেই তান্ত্রিক যে আগে শয়তানের উপাসক ছিল, আর অনেক মানুষের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে, আর এখন সময় সেই ভুল শোধরানোর, আমি বুঝতে পেরেছি যে আমি এতদিন ভুল রাস্তায় ছিলাম, আর এখন আমি ভালো হয়ে গেছি, আমি জানি তোরা এখানে কেনো এসেছিস, আর এটাও জানি যে তোরা আমাকে এখান থেকে না নিয়ে কোথাও যাবি না। তাই আমি নিজে তোদের সাথে যাবো আর ওই ভালো আত্মাদের মুক্তির ব্যবস্থা করবো।
এক নাগারে সব কথা বলে থামলো তিনি।
সাদিক রা যেনো কিছুতেই হজম করতে পারছে না তার কথা, কারণ তারা কোনো দিন ভাবতেও পারে নি যে সে নিজে তাদের সাথে যাওয়ার জন্য রাজি হবে, আর তাকে অবিশ্বাস করারো কোনো কারণ নেই, তার নামাজ পড়াই বলে দেয় যে সে ভালো হয়ে গিয়েছে।।
সাদিক শুরু থেকে সব কিছু খুলে বলে সেই তান্ত্রিক কে, সব শুনে তান্ত্রিক খুব দুঃখ পায় আর বলে সব কিছু হয়েছে আমার জন্য, আমার বয়স এখন নব্বই এর উপর,, আমি এই বয়সে ভালো কিছু করে তার পর মরতে চাই, আর ওই আত্মা দের মুক্তি না দিতে যদি আমার জানও চলে যায় তাতেও আমি পিছপা হবো না।। সেই তান্ত্রিক বললো আমার হাতে আর বেশি সময় নেই, এখনোই আমাদের রওনা দিতে হবে সেই বাড়ির উদ্দেশে।।
সাদিক হঠাৎ তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো কিন্তু আমাদের নদী পার হওয়ার মতো কিছুই নেই আর, তাহলে আমরা ওখানে যাবো কি করে?
তার কথা শুনে সেই তান্ত্রিক তার মুখে চওড়া হাসি ফুটিয়ে বললো তাকে অনুসরণ করার জন্য।
সাদিক রা বিনা বাক্য ব্যায়ে তার কথা মতো কাজ করলো, আর এক পর্যায়ে তারা সেই নদীর সামনে এলো, কিন্তু এটা সেই জায়গা নয় যেখানে তারা পূর্বে এসেছিল।
তান্ত্রিক কিছুটা এগিয়ে গিয়ে একটা ঝোপের কাছে গেলো আর সেটা সরাতেই বেরিয়ে এলো একটা নৌকা, সেটা দেখে আরো বেশি রকমের শক খেলো তারা, ওরা ভাবতেও পারে নি যে এই অবস্থায় ওরা একটা নৌকা দেখতে পাবে, কিন্তু সাদিক সে রকম অবাক হয় নি কারণ সে এই রকম কিছু আন্দাজ করেছিল যে তান্ত্রিক এই জায়গায় আসলে নৌকা ছাড়া আসবে কি করে, আর তার ভাবনা যে ঠিক হবে সে সেটা ভেবে অবাক হচ্ছিল।।
তান্ত্রিকের কোথায় তারা নৌকায় উঠে বসলো আর খুব সহজেই এইবার নদী পার হয়ে গেলো।।
তারা আবার এসে হাজির হলো সেই জঙ্গলে তাদের পায়ের চাপে পড়ে শুকনো পাতার খস খস আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল শুধু, কারো মুখে কোনো কথা ছিল না, সবাই ছিল এক অজানা আতঙ্কে, তাঁরা কল্পনা করতে পারে না যে তিথীরা তাদের আগমন কি ভাবে নিবে, ওখানে যাওয়া আজো তাদের পক্ষে সুখকর হবে কিনা সেই সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই,,

হঠাৎ করে আকাশ পিছনে তাকিয়ে দেখে সেখানে সাদিক নেই, সবার শেষে সে হাঁটছিল, কিন্তু এখন সে একেবারেই গায়েব।
বাকিদের সেই কথা বলতেই সবাই হন্যে হয়ে খুঁজতে শুরু করে সাদিককে।
কিন্তু তান্ত্রিক যেনো একটু বেশিই ব্যস্ত হয়ে পড়ে সাদিককে খোঁজার জন্য, কিন্তু সেটা আর কারো চোখে পড়ে না।।

সাদিকের পায়ে কিছু একটা আটকে যাওয়ার কারণে সে বসে পড়ে সেখানে ওই জিনিসটা তুলে ফেলার জন্য, কিন্তু তুলতে দেরি হওয়ার কারণে সে ওদের থেকে বেশ পিছনে পড়ে যায়, যার ফলস্বরূপ সে দল থেকে আলাদা হয়ে যায়, কিন্তু সে যখন উঠে সামনের দিকে পা বাড়াবে তখন আর কাউকে দেখতে পায় না, সে বুঝতে পারে তার ভুল।।
কিন্তু হঠাৎ করে পিছনে পাতার খস খস আওয়াজে সে পিছনে তাকায় আর অবাক হয়ে যায়…..

এই দিকে আকাশ রা সাদিক কে খুঁজতে খুঁজতে আবার সেই জায়গায় আসে যেখানে সাদিক তাদের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল, আকাশ জোরে ডাক দেয় সাদিক বলে, কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো সারা পাওয়া যায় নি।
তান্ত্রিক এর মুখে ভয়ের ছাপ দেখা যায়, মনে হয় কিছু একটা নিয়ে চিন্তিত সে।
হঠাৎ করে তারা আবার সেই পাতার খস খস শব্দ শুনতে পায়, আর তাকিয়ে দেখে সাদিক খুড়িয়ে খুড়িয়ে আসছে তাদের দিকে, রীতি দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে তাকে আর বলে কোথায় গিয়েছিলে তুমি জানো কত চিন্তা হচ্ছিল আমাদের,,
সাদিক বললো পায়ে কাটা ফোঁটার কারণে পিছিয়ে পড়েছিলাম,তাই একটু পথ ভূলে গেছিলাম, সাদিকের কথা শুনে রীতি ব্যস্ত হয়ে পড়লো তার পা দেখার জন্য, কিন্তু সাদিক তাকে সরিয়ে দিয়ে বললো এতো ব্যস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই আমি ঠিক আছি, এখন আমাদের যেই কাজে এখানে আসা সেই কাজে মন দেওয়াই ঠিক হবে, কী বলেন তান্ত্রিক মশাই?
তান্ত্রিক বললো, তুমি ঠিক বলেছো বাবা, আমাদের এখন ওই কাজেই বেশি মন দেওয়া উচিত, এই সব ছোট খাটো বিষয় নিয়ে মাথা না ঘামানোই ভালো,,
ওরা আবার চলতে শুরু করলো, কিন্তু তান্ত্রিকের মুখে ছিল একটা শয়তানী হাসি যা কারো নজরে না পড়লেও সাদিকের নজর এড়াতে পারে নি।
সে মনে মনে কিছু একটা আন্দাজ করতে পারছে।।
তারা হাজির হলো সেই বাড়ির সামনে, মাথা তুলে এখনও আগের মতো দাঁড়িয়ে আছে সেই বাড়ি। কিন্তু ভিতরে যে কি বিপদ অপেক্ষা করছে তা সম্পর্কে বাহিরের দুনিয়া অবগত নয়,

সাদিক একবার সবার মুখের দিকে তাকালো আর শেষ বার তান্ত্রিকের মুখের দিকে তাকালো, তান্ত্রিকের চোখে মুখে যেনো সে লোভ দেখতে পেলো, কিন্তু সাদিক এতে কিছু বললো না,
সে সবার উদ্দেশ্যে বললো তাহলে আবার আমরা প্রবেশ করতে যাচ্ছি সেই মৃত্যুপুড়িতে।
আমরা জানি না কখন কি হবে সেখানে আমাদের সাথে, কি বিপদ আবার পোহাতে হবে আমাদের কে, তিথী রা কি মেনে নেবে আবার আমাদের আগমন, আর সে যদি তান্ত্রিক মশাই এর কথা জানতে পারে তবে তারা কি তাকে ছেড়ে দিবে?
এই সব প্রশ্ন করার একটাই উদ্দেশ্য সেটা হলো তান্ত্রিক কে পরীক্ষা করা। কিন্তু এই সব প্রশ্নে তান্ত্রিকের চেহারার কোনো ভাবান্তর হলো না, বরং সে বললো যা হবে দেখে নিবো আমি, তাই বলে পা বাড়ালো সেই বাড়ির ভিতরে, তার দেখাদেখি আকাশ আর রীতিও ঢুকে পড়লো সেখানে, সর্বশেষ সেখানে ঢুকলো সাদিক ঢোকার সাথে সাথেই ঠাস করে বন্ধ হয়ে গেলো দরজা আর তারপর….

চলবে…

About সাদিক হাসান

Check Also

রক্ষক: সাদিক হাসান (পর্ব-১৪)

তোকে শয়তান এর কাছে বলি দিতে হবে একটা যুবতী মেয়ে, একটা যুবককে আর একটা পনেরো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *